একটা পরিচিত দৃশ্য: বিক্রি ভালো, হিসাবে লাভও আছে, কিন্তু সাপ্লায়ারকে টাকা দিতে গিয়ে দেখা গেল অ্যাকাউন্টে টাকা নেই। এটা অদক্ষতার লক্ষণ নয়; এটা লাভ আর ক্যাশের পার্থক্য না বোঝার ফল। ছোট ব্যবসা অনেক সময় লোকসানে বন্ধ হয় না, বন্ধ হয় হাতে টাকা না থাকায়।
পার্থক্যটা কোথায়
লাভ হলো আয় থেকে খরচ বাদ দিলে যা থাকে, বিক্রির দিন ধরে হিসাব করা। ক্যাশ হলো আজ আপনার হাতে বা অ্যাকাউন্টে যা আছে। তিনটা জিনিস এই দুটোকে আলাদা করে দেয়:
- বাকিতে বিক্রি: ডিলার বা কর্পোরেট কাস্টমারকে ৩০ দিনের বাকিতে দিলে লাভ আজই খাতায় উঠল, টাকা আসবে এক মাস পর।
- স্টক: যে মাল গুদামে পড়ে আছে, তার টাকা আপনি আগেই দিয়ে দিয়েছেন। বিক্রি না হওয়া পর্যন্ত সেই টাকা আটকে থাকে।
- অগ্রিম খরচ: দোকান ভাড়ার অগ্রিম, বছরের সফটওয়্যার, বড় যন্ত্র। টাকা যায় একবারে, কিন্তু খাতায় খরচ আসে ভাগে ভাগে।
একটা উদাহরণ
ধরুন অক্টোবরে আপনি ৫ লাখ টাকার মাল বিক্রি করলেন, আর বিক্রি হওয়া মালের খরচ ৪ লাখ, যা নগদে মেটানো। লাভ ১ লাখ। কিন্তু বিক্রির অর্ধেক বাকিতে, আর নভেম্বরের জন্য আগেই ২ লাখ টাকার নতুন মাল কিনে ফেলেছেন। মাসের শেষে নগদ এসেছে আড়াই লাখ, বেরিয়েছে ৪ লাখ আর ২ লাখ মিলিয়ে ৬ লাখ। খাতায় লাভ ১ লাখ, অথচ হাতের টাকা কমেছে সাড়ে তিন লাখ।
১৩ সপ্তাহের ক্যাশ ফ্লো শিট
একটা সাধারণ স্প্রেডশিটই যথেষ্ট। সামনের ১৩ সপ্তাহের (প্রায় তিন মাস) প্রতিটার জন্য লিখুন:
- কত টাকা আসবে বলে আশা করছেন (যেগুলো নিশ্চিত, সেগুলো আলাদা রঙে),
- কত টাকা যাবে: বেতন, ভাড়া, সাপ্লায়ার, বিজ্ঞাপন, কিস্তি,
- সপ্তাহের শেষে হাতে কত থাকবে।
যে সপ্তাহে শেষের সংখ্যাটা শূন্যের নিচে নামছে, সেটাই আপনার সতর্কসংকেত, আর আপনি তা দেখছেন কয়েক সপ্তাহ আগে, যখন এখনো ব্যবস্থা নেওয়ার সময় আছে।
টাকা আটকে না রাখার চারটা উপায়
- বাকির সীমা আর সময় লিখিতভাবে ঠিক করুন, আর সময়মতো মনে করিয়ে দিন।
- বড় অর্ডারে অগ্রিম নিন; আমাদের বাজারে এটা স্বাভাবিক চর্চা।
- ধীরে বিক্রি হওয়া মাল চিহ্নিত করে কম দামে বা বান্ডেলে ছেড়ে দিন।
- ব্যবসার আর ব্যক্তিগত টাকা আলাদা অ্যাকাউন্টে রাখুন। নইলে কোনো হিসাবই পরিষ্কার হয় না।
এই সপ্তাহের কাজ: একটা শিট খুলে আগামী চার সপ্তাহের আসা-যাওয়ার টাকা লিখে ফেলুন। কোন সপ্তাহে টান পড়তে পারে, দেখে নিন।