সপ্তাহ শেষে অনেকেরই মনে হয়, সারা সপ্তাহ ব্যস্ত ছিলাম, অথচ আসল কাজটা হয়নি। কারণ সাধারণত একটাই: সপ্তাহটা শুরু হয়েছে ইনবক্স দিয়ে, পরিকল্পনা দিয়ে নয়। সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসের সকালে আধা ঘণ্টা আলাদা করুন। এই আধা ঘণ্টা বাকি সপ্তাহের অনেক ঘণ্টা বাঁচায়।
প্রথম ১০ মিনিট: পেছনে তাকান
গত সপ্তাহের ক্যালেন্ডার আর কাজের তালিকা খুলুন। তিনটা প্রশ্নের উত্তর লিখুন: কী শেষ হয়েছে? কী আটকে আছে, আর কেন? কাকে কী কথা দিয়েছিলাম, যা এখনো রাখা হয়নি?
পরের ১০ মিনিট: তিনটা ফল বেছে নিন
এই সপ্তাহে কোন তিনটা জিনিস শেষ হলে সপ্তাহটাকে সফল বলবেন? "মার্কেটিং নিয়ে কাজ" লিখবেন না; লিখুন "নভেম্বরের অফারের পোস্ট আর বিজ্ঞাপন চালু"। এমন ভাষায় লিখুন, যাতে শেষ হলে টিক দেওয়া যায়।
শেষ ১০ মিনিট: ক্যালেন্ডারে জায়গা দিন
তিনটা ফলের প্রতিটার জন্য ক্যালেন্ডারে নির্দিষ্ট সময় আটকে রাখুন, সম্ভব হলে সকালের দিকে, যখন মাথা সবচেয়ে পরিষ্কার থাকে। এই সময়কে মিটিংয়ের মতোই গুরুত্ব দিন। তখন কেউ সময় চাইলে বলুন, আপনি ব্যস্ত; কারণ সত্যিই তাই।
সপ্তাহজুড়ে তিনটা নিয়ম
- মেসেজ দেখার সময় বেঁধে দিন: দিনে তিন-চারবার, প্রতি পাঁচ মিনিটে নয়। জরুরি হলে মানুষ ফোন করবেন।
- প্রতিটা মিটিংয়ের একটা উদ্দেশ্য: উদ্দেশ্য লেখা না থাকলে মিটিংটা সম্ভবত একটা মেসেজেই সেরে ফেলা যেত।
- দিনের শেষে পাঁচ মিনিট: কালকের প্রথম কাজটা লিখে তারপর অফিস বন্ধ।
পরিকল্পনা ভেঙে গেলে
ভাঙবেই: কাস্টমারের সমস্যা, পরিবারের দরকার, হঠাৎ আসা সুযোগ। পরিকল্পনার উদ্দেশ্য সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করা নয়; উদ্দেশ্য হলো ভাঙার পর কোথায় ফিরতে হবে, সেটা জানা। দিনের মাঝখানে খেই হারালে নিজেকে শুধু জিজ্ঞেস করুন: আমার তিনটা ফলের কোনটার দিকে এখন এক ধাপ এগোনো যায়?
এই সপ্তাহের কাজ: আগামী সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসের সকালে ক্যালেন্ডারে ৩০ মিনিট আটকে রাখুন, নাম দিন "সপ্তাহের পরিকল্পনা"।